বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতি মানবজাতিকে নতুন দিগন্তের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। চন্দ্রযান-৩ এর সফল উৎক্ষেপণ ভারতের জন্য এক বিশাল অর্জন, যা বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে। এই মহাকাশ অভিযান শুধু বিজ্ঞানীদের কঠোর পরিশ্রমের ফল নয়, এটি দেশের মানুষের স্বপ্ন পূরণেরও একটি মাধ্যম। এই সাফল্যের তাৎক্ষণিক আপডেটগুলো live news-এর মাধ্যমে জানা যাচ্ছে, যা মানুষকে উৎসাহিত করছে এবং বিজ্ঞান সম্পর্কে আগ্রহ বাড়াচ্ছে।
চন্দ্রযান-৩ এর এই যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৪ই জুলাই, ২০২৩ তারিখে। শ্রীহরিকোটা সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে এই মহাকাশযানটি উৎক্ষেপণ করা হয়। এরপর থেকে বিজ্ঞানীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, এবং প্রতিটি মুহূর্তের তথ্য live news-এর মাধ্যমে প্রকাশ করা হচ্ছে। এই মিশনের উদ্দেশ্য হল চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণ করা এবং সেখানকার পরিবেশ ও গঠন সম্পর্কে গবেষণা করা।
চন্দ্রযান-৩ হলো ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো) দ্বারা পরিচালিত একটি চন্দ্র অভিযান। এটি চন্দ্রযান-২ এর পরবর্তী সংস্করণ, যা ২০১৯ সালে চাঁদে বিধ্বস্ত হয়েছিল। চন্দ্রযান-৩ এ একটি ল্যান্ডার মডিউল (বিক্রম) এবং একটি রোভার (প্রজ্ঞান) রয়েছে। এই দুটি যন্ত্রই চাঁদের পৃষ্ঠে অবতরণ করে সেখানে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাবে। ল্যান্ডার মডিউলের ওজন ১,৭৭৭ কেজি এবং রোভারের ওজন ২৬ কেজি।
| ল্যান্ডার মডিউল (বিক্রম) | ১,৭৭৭ |
| রোভার (প্রজ্ঞান) | ২৬ |
| মোট ওজন | ১,৮০৩ |
চন্দ্রযান-৩ অভিযানের প্রধান উদ্দেশ্য হলো চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে নিরাপদে অবতরণ করা এবং চন্দ্রপৃষ্ঠের বৈজ্ঞানিক গবেষণা চালানো। এই অভিযানের মাধ্যমে চাঁদের মাটি ও খনিজ সম্পদ বিশ্লেষণ করা হবে, যা ভবিষ্যতে চন্দ্র বসতি স্থাপনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এছাড়াও, চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে জলের সন্ধান করাও এই অভিযানের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।
চাঁদের দক্ষিণ মেরু বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখানে সূর্যের আলো কম পৌঁছায়। ফলে, এই অঞ্চলে বরফের আকারে জল পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জল পাওয়া গেলে, তা পানীয় জলের উৎস হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে এবং এটি রকেট জ্বালানি হিসেবেও কাজে লাগবে। চন্দ্রযান-৩ এর মাধ্যমে এই অঞ্চলের পরিবেশ এবং সম্পদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হবে, যা ভবিষ্যতে চন্দ্র অভিযানগুলোকে আরও সহজ করে তুলবে। এই অভিযান সম্পর্কে মানুষ জানতে পারছে live news-এর মাধ্যমে।
চন্দ্রযান-৩ এ অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। ল্যান্ডার মডিউলে চারটি থ্রাস্টার ইঞ্জিন রয়েছে, যা এটিকে ধীরে ধীরে চাঁদের পৃষ্ঠে অবতরণ করতে সাহায্য করবে। রোভারে রয়েছে নেভিগেশন ক্যামেরা, স্পেকট্রোমিটার এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম, যা চাঁদের মাটি ও পাথর বিশ্লেষণ করবে। এই প্রযুক্তিগুলো ইসরোর নিজস্ব উদ্যোগে তৈরি করা হয়েছে, যা ভারতের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিখাতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
চন্দ্রযান-৩ অভিযানটি সহজ ছিল না। উৎক্ষেপণের আগে এবং পরে অনেক প্রতিকূলতা মোকাবিলা করতে হয়েছে। চাঁদের পৃষ্ঠে অবতরণ করা সবচেয়ে কঠিন কাজ ছিল, কারণ চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ শক্তি পৃথিবীর চেয়ে কম এবং সেখানকার ভূখণ্ড বন্ধুর। বিজ্ঞানীরা এই সমস্যা সমাধানের জন্য উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করেছেন এবং বিস্তারিত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। Live news-এর মাধ্যমে মানুষ জানতে পেরেছে বিজ্ঞানীরা কিভাবে এই প্রতিকূলতাগুলো মোকাবিলা করছেন।
চাঁদের পৃষ্ঠে ধীরে ধীরে এবং নিরাপদে অবতরণ করার জন্য ল্যান্ডার মডিউলের গতি নিয়ন্ত্রণ করা খুবই জরুরি ছিল। এর জন্য থ্রাস্টার ইঞ্জিনগুলোকে সঠিকভাবে কাজ করতে হয়েছে। এছাড়াও, অবতরণের সময় কোনো পাথর বা খাদ থাকলে ল্যান্ডারকে তা এড়িয়ে চলতে হয়েছে। বিজ্ঞানীরা এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলার জন্য অত্যাধুনিক সেন্সর এবং অ্যালগরিদম ব্যবহার করেছেন।
চন্দ্রযান-৩ এর সাফল্য ভারতের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। এটি প্রমাণ করে যে ভারতীয় বিজ্ঞানীরা যেকোনো কঠিন কাজ করতে সক্ষম। এই সাফল্য ভারতকে মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে বিশ্বের প্রথম সারির দেশগুলোর মধ্যে নিয়ে যাবে। এছাড়াও, এটি তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহী করে তুলবে এবং নতুন উদ্ভাবনের পথে উৎসাহিত করবে।
চন্দ্রযান-৩ এর সাফল্যের পর ইসরো ভবিষ্যতে আরও বড় পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ২০২৫ সালের মধ্যে গগনযান নামের একটি মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করার পরিকল্পনা রয়েছে, যার মাধ্যমে ভারতীয় নভোচারীরা মহাকাশে যাবেন। এছাড়াও, শুক্র গ্রহে একটি অভিযানের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যা ২০৩০ সালের মধ্যে শুরু হতে পারে। Live news-এর মাধ্যমে এই পরিকল্পনাগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

”Elevating Customer Journeys with Artful Care”
“Elevating experiences daily. From first touch to farewell, we blend passion and innovation to exceed expectations. Book now and indulge in enchantment. Your journey begins here.”